সকাল-সন্ধ্যার দুআ
সকালে-ভোরে পড়বে-
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
‘হে আল্লাহ, আপনারই ইচ্ছায় আমরা সকালে উপনীত হয়েছি। আপনারই ইচ্ছায় সন্ধ্যায় পৌঁছেছি। আপনারই ইচ্ছায় বেঁচে থাকব। আপনারই ইচ্ছায় মারা যাবো। আপনারই ইচ্ছায় পুনরুত্থান।’
সূর্যোদয়ের সময় পড়বে-
الحمدُ للهِ الَّذي أقَالَنَا يَوْمَنَا هذَا وَلَمْ يُهلِكْنا بِذُنُوْبِنَا
‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এই দিনে আমাদের সাথে ক্ষমার আচরণ করেছেন। এবং আমাদের গুনাহের কারণে আমাদের শেষ করেননি।’
সন্ধ্যায় পড়বে-
اللَّهُمَّ بِكَ أمْسَيْنا، وَبِكَ أصْبَحْنا، وَبِكَ نَحْيا، وَبِكَ نَمُوتُ، وإلَيْكَ النُّشُورُ
‘হে আল্লাহ, আপনারই ইচ্ছায় সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি, আপনারই ইচ্ছায় সকালে উপনীত হব। আপনারই ইচ্ছায় বেঁচে থাকব, আপনারই ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করব। আর আপনারই কাছে প্রত্যাবর্তন।’
তথ্যসূত্র : সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে ইবনু মাজাহ, মুসতাদরাকে হাকিম, আমালুল ইয়াওমি ওয়াললাইলাহ, আল-আযকার।
খাওয়া ও ঘুম
খাবারের শুরুতে পড়বে-
بِسْمِ اللهِ وَبَرَكَةِ اللهِ
‘শুরু করছি আল্লাহর নামে এবং তাঁর বরকতের সাথে।’
শুরুতে দুআ পড়তে ভুলে গেলে পড়বে-
بِسْمِ اللهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ.
‘খাবারের শুরু-শেষ সকল অংশে আল্লাহর নামের সঙ্গে।’
খাবার শেষ করে পড়বে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ
‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের পানাহার করিয়েছেন এবং যিনি আমাদের মুসলিম বানিয়েছেন।’
দুধ পান করার সময় পড়বে-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ، وَزِدْنَا مِنْهُ
ঘুমানোর পূর্বে পড়বে-
اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
‘হে আল্লাহ, আপনারই নাম স্মরণ করে মারা যাব (যখন মারা যাই) এবং (আপনারই নাম বুকে নিয়ে) বেঁচে থাকব যতক্ষণ বেঁচে থাকি।’
ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে পড়বে-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ، وَأَنْ يَحْضُرُونِ
‘আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে। এবং তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে। এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে তাদের হাজির হওয়া থেকে।’
স্বপ্নে ভয়ানক কিছু দেখলে পড়বে-
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيطَانِ الرَّجِيمِ
ঘুম থেকে উঠার সময় পড়বে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَمَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের মৃত্যু দেওয়ার পর জীবন দান করেছেন। আর তাঁরই আদেশে (আমাদের) পুনরুত্থান।’
ইসতিনজা ও পবিত্রতা
টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
‘হে আল্লাহ, নর-শয়তান ও নারী-শয়তানের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’
টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর-
غُفْرَانَكَ / الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
‘(আল্লাহ) আমাকে ক্ষমা করুন।’
অযু ও গোসলের শুরুতে পড়বে-
بِسْمِ الله
অযু ও গোসলের শেষে পড়বে-
أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، اللهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ، وَاجْعَلْنِي مِنَ المُتَطَهَّرِينَ
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনিই একমাত্র ইলাহ, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ, আমাদের তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’
আযান ও সালাতের দুআ
আযানের উত্তর দিবে এবং পড়বে-
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ
মসজিদে প্রবেশের সময়-
اللَّهُمَّ! افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ.
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়-
اللَّهُمَّ! إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
নামাযের সালাম ফিরিয়ে পড়বে-
أَسْتَغْفِرُ الله (৩ বার)
ফরয নামায শেষে পড়বে-
سُبْحَانَ الله (৩৩ বার), الْحَمْدُ لِلَّهِ (৩৩ বার), اللهُ أَكْبَرُ (৩৪ বার)
পোশাক ও ঘরের দুআ
জামা পরিধানের পর পড়বে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا الثَّوْبَ وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي، وَلَا قُوَّةٍ
‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এই কাপড় পরিয়েছেন এবং আমার কোনো শক্তি, সামর্থ্য ছাড়াই আমাকে তা প্রদান করেছেন।’
জামা খোলার সময় পড়বে-
بِسْمِ اللهِ
ঘরে প্রবেশের সময় পড়বে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ، وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا
‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি (ঘরে) প্রবেশের কল্যাণ ও বের হওয়ার কল্যাণ। আল্লাহরই নামের সঙ্গেই ঢুকেছি, আল্লাহরই নামের সঙ্গে বের হয়েছি। আর আমাদের রব আল্লাহরই উপর ভরসা করেছি।’
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পড়বে-
بِسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ.
‘আল্লাহর নামে বের হচ্ছি। আল্লাহর উপর ভরসা করেছি। একমাত্র আল্লাহরই ইচ্ছায় শক্তি ও সক্ষমতা।’
দরজা, জানালা বন্ধ করার সময় পড়বে-
بِسْمِ اللهِ
কোথাও অবস্থানের সময় পড়বে-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
খালি ঘর ও মসজিদে প্রবেশের সময় পড়বে-
السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ
আয়নায় চেহারা দেখার সময় পড়বে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ، اللَّهُمَّ كَمَا حَسَّنْتَ خَلْقِي فَحَسِّنْ خُلُقِي
‘সকল প্রশংসা আল্লাহর। হে আল্লাহ, আপনি যেমন সুন্দর করে আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অনুরূপ আমার আখলাককে সুন্দর করে দিন।’
তথ্যসূত্র : সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে ইবনু মাজাহ, মুসতাদরাকে হাকিম, আমালুল ইয়াওমি ওয়াললাইলাহ, আল-আযকার।
চলাফেরা ও দেখা-সাক্ষাৎ
কোনো মুসলমানের সাথে সাক্ষাতে বলবে-
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
সালামের জবাবে বলবে-
وَعَلَيْكُمْ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ.
মুসাফাহার সময় পড়বে-
يَغْفِرُ الله لَنَا وَلَكُمْ
যে কোনো কাজের নিয়ত করলে বলবে-
إِنْ شَاءَ اللهُ
যে কোনো ভালো/বৈধ কাজ শুরু করতে পড়বে-
بِسْمِ الله
কেউ কোনো উপকার করলে বলবে-
جَزَاكَ اللَّهُ. (جَزَاكِ اللَّهُ মহিলার ক্ষেত্রে)
উপরে উঠার সময় পড়বে-
اَللهُ أَكْبَرُ
নীচে নামার সময় পড়বে-
سُبْحَانَ الله
যানবাহনে আরোহনের সময় পড়বে-
سُبۡحَٰنَ ٱلَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُۥ مُقۡرِنِينَ وَإِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
‘তিনি পবিত্র, যিনি একে (সওয়ারীকে) আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে বশে আনতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমাদেরকে অবশ্যই রবের কাছেই ফিরে যেতে হবে।’
হাঁচি আসলে পড়বে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ
হাঁচির উত্তরে পড়বে-
يَرْحَمُكَ اللَّهُ
হাই আসলে যথাসম্ভব রুখে দিবে এবং মুখ ঢেকে রাখবে।
প্রিয় ও আকর্ষণীয় কিছু দেখলে পড়বে-
مَاشَاءَ الله
ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের জন্য পড়বে-
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيطَانِ الرَّجِيمِ
দানকারী বা হাদিয়া প্রদানকারীর জন্য পড়বে-
بَارَكَ اللهُ فِيْكُمْ
বাজারে যাওয়ার সময় পড়বে-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ كُلُّهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একমাত্র মাবুদ। তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁর। প্রশংসা তাঁরই। তিনি মৃত্যু ও জীবন দান করেন। তিনি মৃত্যুহীন, চিরজীবি। তাঁরই কবজায় (সকল) কল্যাণ। আর তিনি সকল বিষয়ে শক্তিমান।’
সুসংবাদ ও বিপদকালীন দুআ
সুসংবাদ শুনলে পড়বে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ
রোগী দেখতে গিয়ে পড়বে-
لا بَأْسَ، طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
‘কোনো কষ্ট নেই। (এই অসুখ তোমার) গুনাহ মাফের উপায় হবে, ইনশাআল্লাহ।’
ভীতি ও শঙ্কা হলে পড়বে-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
বিপদ বা শোক সংবাদ শুনলে পড়বে-
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ.
জটিল রোগাক্রান্ত বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখলে পড়বে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ، وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا
‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে ওই বিষয় থেকে নিরাপদ রেখেছেন যার শিকার তোমাকে করেছেন এবং আমাকে তাঁর অনেক সৃষ্টির চেয়ে ভালো বানিয়েছেন।’
তথ্যসূত্র : সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে ইবনু মাজাহ, মুসতাদরাকে হাকিম, আমালুল ইয়াওমি ওয়াললাইলাহ, আল-আযকার।
Under Construction
Under Construction